Let's express...

Breaking

Friday, August 9, 2024

বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও তাঁর চ্যালেঞ্জ

 


 

 গত কয়েকদিনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনাবহুল গত সপ্তাহটি বিপ্লবী লেনিন এর একটি বিখ্যাত উক্তি মনে করিয়ে দেয়। ‘কখনো কখনো একটি যুগ কোন কিছু না ঘটেই কেটে যেতে পারে। আবার কখনো একটি সপ্তাহে পুরো এক যুগের ঘটনা ঘটতে পারে।’ ছাত্রদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মুখে লৌহ মানবী শেখ হাসিনার ষোল বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। ছাত্র-জনতার জয় হয়েছে। ছাত্র-জনতা, রাষ্ট্রপতি এবং সেনাশাসক মিলে শলা পরামর্শ করে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব করেছে। গণমাধ্যমের খবরে জানা যাচ্ছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস হতে যাচ্ছেন এই অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। এই অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার তার সামনে কি ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে যাচ্ছে, আজকে  আমরা কথা বলবো সে বিষয়েই। তো চলুন শুরু করা যাক!
দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা
প্রথমেই বলে নেয়া দরকার শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতির সাবেক শিক্ষক ড. মুহাম্মদ ইউনুস ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে ব্যপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। যা তার জন্যে একটি বাড়তি শক্তি।
শেখ হাসিনা পতনের পর সারা দেশ জুড়ে যে অরাজকতা, লুঠতরাজ, অগ্নি সংযোগ বিশেষত হিন্দুদের ধন-সম্পদ, উপসানালয়, ঘর-বাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এই সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য দমন করে এবং জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বিশেষত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা তার একটি বড়ো লক্ষ্য থাকবে।

ন্যয় বিচার প্রতিষ্ঠা
রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে আঁকড়ে ধরা দুর্নীতির ঘুণপোকা ঝেটিয়ে বিদায় করা হবে এই সরকারের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ। যা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। এই সরকারের আশু লক্ষ্য জুলাই ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সকলের হত্যার বিচার করা, দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। অসুস্থ্য ও গ্রেফতারকৃত এবং মামলাপ্রাপ্তদের পূনর্বাসন করা।

অর্থনৈতিক উন্নতি
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ক্রমহ্রাসমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে পুনরুদ্ধার করা হবে এই সরকারের জন্য বড়ো একটি চ্যালেঞ্জ। সে জন্য তার নীতি ও কৌশল কি হয়, তাই নির্ভর করবে এই বাংলার ভবিষ্যৎ। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনুস যেহেতু একজন অর্থনীতিবীদ তাই আশা করা যায়, এ ব্যাপারে তিনি সিদ্ধহস্ত হতে পারবেন।


অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন
এ দেশের মানুষের কাছে বহুল আকাঙ্খিত অবাধ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন পরিচালনা করা হবে এই সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পারবে কিনা তার উপরই নির্ভর করছে এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্য।

গণতন্ত্র, সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা
জুলাই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মোটো গণতন্ত্র, সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা। ড. মুহাম্মদ ইউনুস যা প্রতিষ্ঠায় সারা জীবন কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষের বহুল আখাঙ্খিত এই উদ্দেশ্যটি পূরণ করা এই সরকারের স্থায়ী লক্ষ্য এবং সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ লক্ষকে সামনে রেখেই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আবার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমাদের তরুণ তুর্কীরা সরকারি বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। এবার এ লক্ষ্য পূরণ করতেই হবে। এ সরকার কি তা পারবে?

আজকে এ পর্যন্তই আবার দেখা হবে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। নিরাপদে থাকুন।

No comments:

Post a Comment